বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID কার্ড) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক ট্রানজেকশন, সরকারি সেবা, পাসপোর্ট অথবা সিম রেজিস্ট্রেশনের জন্য এনআইডি অপরিহার্য।
কিন্তু ভুলক্রমে যদি আপনার NID কার্ড হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে তা পুনঃপ্রাপ্তির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এনআইডি হারানোর পর প্রথম করণীয় হচ্ছে স্থানীয় থানায় জিডি (General Diary) করা; তবে নির্বাচনী কমিশন গত কয়েক বছরে সহজ নিয়ম করেছে – এখন থেকে জিডি বাধ্যতামূলক নয়।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে এনআইডি কার্ড হারালে আর জিডি করানোর প্রয়োজন নেই। তাই মাত্র ফি পরিশোধ করে অনলাইনে আবেদন করুন, এবং নতুন এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করুন।
হারানো কার্ড পুনর্মুদ্রণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অনলাইনে নিবন্ধন সিস্টেমে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে।

লগইন করার পর “রি-ইস্যু” বা “হারানো/নষ্ট কার্ড পুনর্মুদ্রণ” অপশন নির্বাচন করুন এবং আবেদন ফর্মে কার্ড হারানোর কারণ উল্লেখ করুন।
আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন: পুরনো এনআইডি কপি, জন্মনিবন্ধন/শিক্ষাগত সনদ, ঠিকানার প্রমাণ) এবং হারানো কার্ডের জিডি কপি আপলোড করুন। যদিও জিডি বাধ্যতামূলক নয়, সুরক্ষার স্বার্থে অনেকেই থানায় গিয়ে জিডি করে জিডির মূল কপি (বিনা অতিরিক্ত খরচে) সংরক্ষণ করেন।
NID সংশোধনী বাতিল হলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
পরবর্তীতে অনলাইনে অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ করুন। ফি দেওয়ার জন্য বিকাশ/নগদ/রকেট ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। আবেদন সম্পন্ন হলে রসিদ ডাউনলোড করে রেখে দিন।
আবেদনটি অনুমোদিত হলে আপনার মোবাইল অথবা ইমেইলে বার্তা পাঠানো হবে, এবং তারপর থেকে আপনি অনলাইনেই আপনার NID কার্ডের কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
NID পুনর্মুদ্রণের আবেদনপত্রের সাথে সাধারণত যে কাগজগুলো লাগতে পারে সেগুলো হলো–
- পুরনো ভোটার কার্ড বা এনআইডি কার্ডের ফটোকপি (যদি থাকে)
- জন্ম নিবন্ধন সনদ/এসএসসি (বয়স প্রমাণ হিসাবে)
- ঠিকানার প্রমাণ (যেমন বিদ্যুৎ-বিল, গ্যাস-বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ ইত্যাদি)
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি (যদি বাধ্যতামূলক হয়)
- জিডি কপি (পুরনো নিয়মে হারানো কার্ডের জন্য দরকার হত; এখন বাধ্যতামূলক নয়, তবে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করে কপি রাখলে ভালো)
- আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর (যাতে কমিশন যোগাযোগ করে)
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। ভুল তথ্য বা অনুপস্থিত দলিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
সহজেই স্মার্ট NID কার্ড স্ট্যাটাস চেক করুন।
আবেদন ফি এবং পেমেন্ট পদ্ধতি
নতুন এনআইডি কার্ডের আবেদন করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি দিতে হয়। হারানো/নষ্ট এনআইডি পুনর্মুদ্রণের ক্ষেত্রে প্রথমবারের জন্য সাধারণ সেবায় ফি ২০০ টাকা এবং জরুরি/দ্রুত সেবায় ৩০০ টাকা।
দ্বিতীয়বার হারিয়ে গেলে সাধারণ সেবায় ফি ৩০০ টাকা (জরুরিতে ৫০০ টাকা) আর তৃতীয়বার কিংবা পরবর্তী বার হারালে ৫০০ টাকা (জরুরিতে ১,০০০ টাকা) ফি ধার্য করা হয়।
| বিবরণ | সাধারণ ফি | জরুরী ফি |
|---|---|---|
| প্রথমবার হারানো/নষ্ট | ২০০ টাকা | ৩০০ টাকা |
| দ্বিতীয়বার হারানো | ৩০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| পরবর্তী হারানো | ৫০০ টাকা | ১,০০০ টাকা |
| এনআইডি নবায়ন | ১০০ টাকা | ১৫০ টাকা |
পেমেন্ট পদ্ধতি:
- অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-ট্যাক্স টিন/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যাবে।
- অনলাইনে পেমেন্ট করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন আপডেট হবে।
- টাকা জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করে রাখা উচিৎ।
আবেদন পরবর্তী করণীয়
আবেদন দাখিলের পর ১০-১৫ কার্যদিবস এর মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণ সেবা হলে এই সময়সীমা, দ্রুত সেবা নিলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কার্ড পাওয়া যায়।
আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যদি পুনর্মুদ্রণ অনুমোদিত হয়, নির্বাচন কমিশন আপনার মোবাইলে/ইমেলে নতুন কার্ড প্রাপ্তির নির্দেশ পাঠাবে। এরপর আপনি অনলাইন পোর্টালে গিয়ে নিজের এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
উল্লেখ্য: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আবেদন সম্পন্ন করে রশিদ সংরক্ষণ করুন এবং মাঝে মাঝে nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে লগইন করে আবেদন স্ট্যাটাস দেখে নিন।
সতর্কতা ও পরামর্শ
- প্রতারণা থেকে সাবধান: এনআইডি কার্ড পুনর্মুদ্রণের নাম করে কেউ যদি অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, সে সম্পর্কে সত্যিই সতর্ক থাকুন। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কেউ টাকা নিলে সরকারি অফিশিয়াল নয়। সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট বা অফিসেই যোগাযোগ করুন।
- জিডি করার ব্যাপারে: নতুন নিয়ম অনুসারে জিডি বাধ্যতামূলক না হলেও, আপনার নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করে রাখলে ভালো। কোনো গোয়েন্দা বা অপরাধমূলক কাজে আপনার এনআইডি ব্যবহৃত হলে জিডি প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।
- সঠিক তথ্য: আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেবেন না। কোনো অনৈতিক তথ্য দিলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে।
- সময়মতো আপডেট: যদি আপনার ঠিকানায় পরিবর্তন ঘটে বা জন্ম তারিখে ভুল থাকে, তা দ্রুত NID সংশোধন করে নিন। শুধুমাত্র হারানো নয়, যে কোনও ভুলত্রুটি চিহ্নিত করতে ও মেরামত করতে আপনার আইডিতে সময়মতো নজর দিন।
- ক্যাপচা ও চিহ্ন যাচাই: অনলাইনে জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই দেখবেন ছবি/স্বাক্ষর সঠিক আছে কিনা, কারণ হারানো কার্ড থেকে নতুন কার্ড পাওয়ার পর সেগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।
এভাবে সচেতন হয়ে কাজ করলে হারানো এনআইডি কার্ড পুনরায় পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করলেই ঝামেলা কম এবং সময় বাঁচে।
উপসংহার
হারানো এনআইডি কার্ড দ্রুত পাওয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে পুনর্মুদ্রণের জন্য আর জিডি বাধ্যতামূলক নয়, তাই দ্রুত অনলাইনে আবেদন করে নতুন কার্ড হাতে নিয়ে আপনার দৈনন্দিন কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ঠিকঠাক জোগাড় রাখুন এবং ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন। কার্ড পেতে সাধারণত ১-২ সপ্তাহ সময় লাগলেও এক্সপ্রেস সেবায় দ্রুত পাওয়া যায়।
সবশেষে নিজের তথ্য সঠিক রাখা ও নিয়মিত আপডেট রাখা অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে এনআইডি সংশোধন বা নবায়নের প্রয়োজন না হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ডের জন্য কি করতে হবে?
দ্রুত স্থানীয় থানায় গিয়ে জিডি (GD) করুন এবং জিডি কপি নিয়ে এনআইডি পুনর্মুদ্রণের জন্য নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে আবেদন করুন। গণভবনের ঘোষণামতে জিডি বাধ্যতামূলক নয়, তবে সুরক্ষার স্বার্থে জিডি করলে সুবিধা থাকতে পারে। আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিল আপলোড করে আবেদন জমা দিন।
পুনর্মুদ্রণের আবেদন করতে কি ফি দিতে হবে? কত?
হ্যাঁ, আবেদন ফি দিতে হয়। প্রথমবার হারানোর জন্য সাধারণ সেবায় ২০০ টাকা এবং জরুরী সেবায় ৩০০ টাকা দিতে হবে। দ্বিতীয়বার হারালে সাধারণ ৩০০ টাকা (জরুরি ৫০০ টাকা) এবং পরবর্তী বার ৫০০ টাকা (জরুরি ১,০০০ টাকা) ফি ধার্য হয়। ফি মোবাইল ব্যাংকিং বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
জিডি (GD) বাধ্যতামূলক কি?
২০২৫ সালের প্রথম দিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে যে এনআইডি পুনর্মুদ্রণের জন্য আর জিডি বাধ্যতামূলক নয়। তাই এখন গৃহীত নিয়ম অনুযায়ী জিডি করানো আবশ্যিক নয়। তবুও কিছু মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় গিয়ে জিডি করে কপি রেখে দেন।
আবেদন করলে নতুন এনআইডি কার্ড পেতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১০-১৫ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। দ্রুত সেবায় ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কার্ড পাওয়া যায়। তবে সঠিকতা যাচাই ও প্রিন্ট কাজের কারণে প্রকৃত সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
অনলাইনে আবেদন করলে নতুন এনআইডি কার্ড কিভাবে পাওয়া যাবে?
অনলাইনে আবেদন অনুমোদিত হলে নির্বাচন কমিশন আপনার মোবাইল/ইমেলে জানিয়ে দেবে। এর পর পোর্টালে লগইন করে আপনি আপনার এনআইডি কার্ডের কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ফলে সরাসরি কাগজপত্র নিয়ে ভিড় করার পরিবর্তে অনলাইনে সুরক্ষিতভাবে কার্ড পেয়ে যাবেন।
হারানো এনআইডি কার্ড পুনর্মুদ্রণের আবেদন প্রসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে উপরে তথ্য দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য দিয়ে আবেদন করলে আপনার নতুন এনআইডি কার্ড দ্রুত হাতে পাবেন।



[…] রি-ইস্যু (হারানো/নষ্ট কার্ড) […]
[…] হারানো বা নষ্ট হওয়া NID উত্তলোনের সহজ ও কার্যকরী উপায় জেনে নিন। […]
[…] হারানো বা নষ্ট হওয়া NID উত্তলোনের সহজ ও কার্যকরী উপায় জেনে নিন। […]
[…] হারানো বা নষ্ট হওয়া NID উত্তলোনের সহজ ও কার্যকরী উপায় জেনে নিন। […]
[…] হারানো বা নষ্ট হওয়া NID উত্তলোনের সহজ ও কার্যকরী উপায় জেনে নিন। […]