বাংলাদেশে ১৬ বছর বয়সে সকল নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি সব সেবায় এনআইডি দরকার হয়। কিন্তু কার্ডে কোনো ভুল থাকলে পাসপোর্ট, ব্যাংক একাউন্ট বা অন্য যেকোনো কাজে জটিলতা হতে পারে।
২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এনআইডি চালু আছে; ২০১৬ সাল থেকে স্মার্ট কার্ড (ইলেকট্রনিক চিপ) এবং ২০২০ সাল থেকে অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে এ সংশোধনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে – ঘরে বসেই আপনি নিজের ফোন বা কম্পিউটারে আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের ধাপ
ধাপ ১: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল সাইটে (NID ওয়েবসাইট) প্রবেশ করে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে একাউন্ট খুলুন।

ধাপ ২: ‘NID Wallet’ অ্যাপ দিয়ে আপনার ছবি যাচাই (ফেস ভেরিফিকেশন) সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৩: একাউন্টে লগইন করে সংশোধন করতে চান তথ্য (যেমন: নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি) এডিট করুন।
ধাপ ৪: সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী ফি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) বা ব্যাংক/ট্রেজারি চালান দিয়ে পরিশোধ করুন।
ধাপ ৫: সংশোধন দাবি সমর্থন করে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র (স্ক্যানকৃত কপি) আপলোড করুন।
ধাপ ৬: সবকিছু যাচাই করে ‘সাবমিট’ করুন। আবেদন সফল হলে একটি রসিদ ডাউনলোড করে নিন।
সহজে NID অনলাইন কপি ডাউনলোড করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সংশোধনের আবেদন জমা দিতে সাধারণত নিচের মূল কাগজপত্র লাগে। এগুলো অনলাইনে স্ক্যান কপি হিসেবে আপলোড করতে হবে:
- এসএসসি বা সমমানের সনদপত্র।
- জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)।
- বিবাহনামা (নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)।
- ইউটিলিটি বিল বা সমমানের ঠিকানাপত্র (ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য)।
যে কোনো অতিরিক্ত স্বাক্ষরযুক্ত দলিল জমা দিলে আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ হয়।
এনআইডি কার্ডের সামনের পৃষ্ঠায় নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, স্বাক্ষর ইত্যাদি থাকে; পেছনে ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও জন্মস্থানসহ অন্যান্য তথ্য থাকে। এই তথ্যগুলোর কোনোটি ভুল থাকলে সংশোধনের মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারবেন।
সহজেই NID কার্ডে নাম সংশোধনের উপায়।
সংশোধনের ফি
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ফি সাধারণত সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রথমবার আবেদন করলে ২০০ টাকা (ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা) ফি দিতে হয়।
অন্য কোনো তথ্য (যেমন: পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা) সংশোধনের জন্য প্রথমবার ১০০ টাকা (ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা) ফি লাগে। পরবর্তীতে প্রত্যেকবার আবেদন করলে ফি বাড়তে পারে। এছাড়া কার্ড হারিয়ে গেলে বা মেয়াদ পূর্ণ হলে নবায়ন/রিইস্যু ফি দিতে হয়।
সাধারণ আবেদন হলে সংশোধনের ফি ২০০ টাকায় শুরু হয়, জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা ফি থাকতে পারে।
ফি পরিশোধের জন্য সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি চালান কিংবা সরকারি পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) দিয়ে ফি জমা দেয়াই সবচেয়ে সহজ।
এনআইডি (NID) সংশোধনের ফি ২০২৬
| সংশোধনের ধরন | ১ম বার ফি | ২য় বার ফি | ৩য় বার ফি |
|---|---|---|---|
| ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, জম্ম তারিখ) | ২৩০ টাকা | ৩৪৫ টাকা | ৫৭৫ টাকা |
| অন্যন্য তথ্য (ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ) | ১১৫ টাকা | ১৭৫ টাকা | ৩০০ টাকা |
| রি-ইস্যু (হারানো/নষ্ট কার্ড) | ৩৪৫ টাকা | ৫৭৫ টাকা | ১,১৫০ টাকা |
সংশোধনের সময়সীমা
সাধারণত অনলাইন আবেদন করার পর এনআইডি সংশোধনের কাজ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়। জরুরিভাবে আবেদন করলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কাজ শেষ করা হয়।
প্রকৃত সময়ে প্রক্রিয়াকরণে নথিপত্র যাচাই এবং তদারকির ওপর নির্ভর করে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিলে আবেদন দ্রুত অনুমোদন পায়।
হারানো বা নষ্ট হওয়া NID উত্তোলন করুন কোনো ঝামেলা ছাড়াই!
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার আবেদন স্ট্যাটাস services.nidw.gov.bd পোর্টালে লগইন করে দেখে নিতে পারেন।
- প্রতিবার আবেদন করার আগে নিশ্চিত করুন সকল তথ্য শুদ্ধভাবে দেওয়া হয়েছে। একটি তথ্য শুধুমাত্র একবারই সংশোধন করা যায়, তাই সর্বোচ্চ যত্ন নিয়ে ফরম পূরণ করুন।
- কোনও দালাল বা অবৈধ চক্রের প্রতি ঝুঁকবেন না – সরকারি পোর্টাল এবং আপডেটেড সূত্র ব্যবহার করাই নিরাপদ।
উপসংহার
সম্পূর্ণ ডিজিটাল এনআইডি সেবায় এখন নিজেই ঘরে বসে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে পারবেন। সঠিক দফায় ফি পরিশোধ করে এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্র আপলোড করে আবেদন করলে ১৫-৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধিত কার্ড পাবেন। ভুল তথ্য ঠিক করে রাখা জরুরি, তাই দ্রুত অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করে নিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন কীভাবে করব?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) নিবন্ধন করে আবেদন করতে হবে। প্রথমে এনআইডি নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন, তারপর সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী ফি পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় দলিল আপলোড করুন।
সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
সাধারণত এনআইডি সংশোধনের সাথে এসএসসি/সমমানের সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহনামা (যদি নাম পরিবর্তন হয়), ইউটিলিটি বিল (ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য) ইত্যাদি দলিলপত্র সংযুক্ত করতে হয়। যত বেশি প্রমাণপত্র থাকবে আবেদন তত বেশি শক্তিশালী হবে।
সংশোধনের জন্য আবেদন করলে কতদিন সময় লাগে?
অনলাইনে আবেদন করার পর আনুমানিক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সাধারণ সংশোধন হয়ে যায়। জরুরি কেসে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কাজ শেষ হয়। তবুও অফিসের ব্যস্ততা ও দস্তাবেজ যাচাইয়ের কারণে সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
এনআইডি সংশোধনের ফি কত এবং কীভাবে পরিশোধ করবো?
সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রথমবার নাম/ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রায় ২৩০ টাকা (ভ্যাটসহ) ফি লাগে। মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) বা সরকারি ট্রেজারি চালান/পে-অর্ডারে এই ফি পরিশোধ করা যায়।
একই তথ্য একাধিকবার সংশোধন করা যাবে কি?
না, একটি তথ্য শুধু একবারই সংশোধন করা যায়। তাই প্রথমবার আবেদন করার সময় নিশ্চিত হয়ে কাজ করতে হবে যাতে পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন না পড়ে।



[…] ঘটে বা জন্ম তারিখে ভুল থাকে, তা দ্রুত NID সংশোধন করে নিন। শুধুমাত্র হারানো নয়, যে কোনও […]
[…] এনআইডি সংশোধনের আবেদন বাতিল হওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। সঠিক কারণ বুঝে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পুনরায় আবেদন করে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। […]