দেশের ১১৬টি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে (আইএসপি) জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ডেটা ইনফরমেশন সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা না দেওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এর কমিশন সভায় গৃহীত হয়; এর বিস্তারিত ২৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
কেন জরিমানা করা হলো?
বিটিআরসির ডেটা ইনফরমেশন সিস্টেম বা ডিআইএস হলো টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা। লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া এবং ব্যবস্থায় নিবন্ধিত থাকা সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের দায়িত্ব। এই নিয়ম পালনের অবস্থার ভিত্তিতেই ১১৬টি আইএসপির বিরুদ্ধে আলাদা অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জরিমানার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নোটিশের জবাব দিয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটি কোন পর্যায়ের লাইসেন্সধারী, তা বিবেচনা করা হয়েছে। প্রকাশিত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত অনুযায়ী, জরিমানার পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
নিবন্ধন না করা আইএসপিদের জন্য ৩০ দিনের সময়
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৩৭টি প্রতিষ্ঠান ডিআইএসে নিবন্ধিত হয়নি এবং নোটিশের জবাবও দেয়নি। আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠান জবাব দিলেও নিবন্ধিত হয়নি। এই দুই শ্রেণির প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ২৮টি প্রতিষ্ঠান জবাব ও তথ্য দুটোই জমা দিয়েছে, ১৬টি প্রতিষ্ঠান জবাব দিলেও তথ্য দেয়নি, দুটি প্রতিষ্ঠান তথ্য দিলেও জবাব দেয়নি এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠান কোনোটিই দেয়নি। এসব অবস্থার ভিত্তিতেও আলাদা জরিমানা ধার্য হয়েছে।
সাধারণ ইন্টারনেট গ্রাহকদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
এই সিদ্ধান্ত মূলত আইএসপিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে। ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের সব গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ হয়ে যাবে বা ইন্টারনেটের দাম এখনই বাড়বে, এমন কোনো ঘোষণা এই সিদ্ধান্তে নেই। তাই জরিমানার খবরকে তাৎক্ষণিক সেবাবন্ধের খবর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ে নিয়ম না মানলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী লাইসেন্সসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিজের আইএসপির সেবা বা লাইসেন্সের বিষয়ে উদ্বেগ থাকলে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নোটিশ এবং বিটিআরসির হালনাগাদ নির্দেশনা দেখা ভালো।
একই সভায় আরও কী সিদ্ধান্ত?
১৪ অক্টোবরের একই সভায় তিন মোবাইল অপারেটরের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ এবং রবিকে পরীক্ষামূলক AI গ্রাহকসেবা চালানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়। রবির AI ভয়েসবট পরীক্ষার শর্ত নিয়ে BanglaGeek-এ আলাদা প্রতিবেদন রয়েছে।


