রবির গ্রাহকসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ভয়েসবট ব্যবহার শুরু হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রবির চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম। এর আগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সেবাটি ছয় মাস পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছিল।
রবির দাবি, নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহককে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। তবে কোন নম্বর বা সেবাপথে ভয়েসবট পাওয়া যাচ্ছে, কতজন গ্রাহক ব্যবহার করতে পারছেন এবং সবার জন্য কবে উন্মুক্ত হবে, তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রবির AI ভয়েসবট কী কী কাজ করবে?
‘Verbex VoiceBOT’ নামে এই ব্যবস্থায় গ্রাহকের প্রশ্ন শুনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মোবাইলের খরচ ও বিলসংক্রান্ত তথ্য, ঋণ বা জরুরি ব্যালান্স, মূল্য সংযোজিত সেবা এবং বিভিন্ন অফার কেনার মতো বিষয়ে এটি সহায়তা করতে পারবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিতে উল্লেখ আছে।
সেবাটিতে Google Cloud Platform-এর বিদেশে থাকা অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই গ্রাহকের কোন তথ্য সেখানে যাবে, আর কোন তথ্য বাংলাদেশেই রাখতে হবে, সে বিষয়ে বিটিআরসি আলাদা শর্ত দিয়েছে।
গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় কী শর্ত?
বিটিআরসির শর্ত অনুযায়ী গ্রাহকের মোবাইল নম্বর সরাসরি বিদেশের সার্ভারে পাঠানো যাবে না। নম্বরের পরিচয় আড়াল করে এবং এনক্রিপশন ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ঠিকানা কিংবা বায়োমেট্রিক তথ্য দেশের বাইরে পাঠানো বা সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।
AI মডেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও গ্রাহকের তথ্য জমিয়ে রাখতে পারবে না। কথোপকথনের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা গেলেও তা মডেল প্রশিক্ষণ বা পরবর্তী উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো অনুমোদনের শর্ত; বাস্তবে শর্তগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা নিরীক্ষার বিষয়।
AI-এর বদলে মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকবে?
হ্যাঁ। ভয়েসবট ব্যবহার করতে গ্রাহকের স্পষ্ট সম্মতি থাকতে হবে। কেউ চাইলে AI এড়িয়ে সরাসরি মানব গ্রাহকসেবা প্রতিনিধির কাছে যেতে পারবেন। কথোপকথনে ব্যক্তিগত পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে AI-কে কলটি মানব প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
বিটিআরসি কীভাবে তদারকি করবে?
পরীক্ষামূলক অনুমতি ছয় মাসের। রবি গ্রাহকের প্রবেশ ও সেশনের লগ অন্তত দুই বছর সংরক্ষণ করবে বলে শর্ত রয়েছে। বিটিআরসি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিরীক্ষা করতে পারবে এবং শর্ত ভাঙলে অনুমতি স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।
রবির গ্রাহকদের এখন কী জানা দরকার?
৩১ অক্টোবরের বক্তব্যে রবি জানিয়েছে, গ্রাহকেরা ইতিমধ্যে AI সেবাটি ব্যবহার করছেন। তবে সব গ্রাহকের জন্য একইভাবে চালু হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কাস্টমার কেয়ারে AI উত্তর দিলে গ্রাহক চাইলে মানব প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার আগে পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াও ভালো।



[…] চালানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়। রবির AI ভয়েসবট পরীক্ষার শর্ত নিয়ে BanglaGeek-এ আলাদা প্রতিবেদন […]
[…] […]