ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান Meta-র ঋণমানের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে S&P Global Ratings। ৩০ অক্টোবর ২০২৬ নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জন্য বিপুল বিনিয়োগ এবং সেই বিনিয়োগ থেকে কত দ্রুত আয় আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে Meta-র বর্তমান AA- ঋণমান কমানো হয়নি।
S&P ঠিক কী পরিবর্তন করেছে?
S&P Global Ratings বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি Meta-র বর্তমান ঋণমান AA- রেখেছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক করেছে। অর্থাৎ এখনই ঋণমান কমেনি; সামনে আর্থিক চাপ বাড়লে তা কমার ঝুঁকি রয়েছে।
মূল উদ্বেগ হলো, Meta ডেটা সেন্টার, শক্তিশালী কম্পিউটার চিপ এবং AI অবকাঠামোতে যে হারে অর্থ ব্যয় করছে, সেই খরচের তুলনায় নতুন আয় কবে যথেষ্ট হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
AI-তে কত টাকা খরচের পরিকল্পনা Meta-র?
Meta-র নিজস্ব তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (১৩৫–১৪৫ বিলিয়ন ডলার)। এই ব্যয়ের মধ্যে সার্ভার, ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও অর্থায়ন-লিজের মূল অর্থ পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত। এটি শুধু AI মডেল তৈরির খরচ নয়।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে Meta-র আয় ছিল ৬ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। কিন্তু ওই প্রান্তিকে কোম্পানির ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ ছিল ঋণাত্মক ২১২ কোটি ডলার। সহজ কথায়, ব্যবসা থেকে পাওয়া নগদ অর্থের তুলনায় নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পর হাতে অবশিষ্ট নগদ অর্থ কমে গেছে। এর অর্থ এই নয় যে কোম্পানি ওই প্রান্তিকে সামগ্রিকভাবে লোকসান করেছে।
বিনিয়োগ থেকে আয় নিয়ে মতভেদ কেন?
S&P-র মূল্যায়ন অনুযায়ী, Meta-র AI বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কতটা আয় হবে এবং তা বাড়তে থাকা ব্যয়কে কখন ছাড়িয়ে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বেশি ঋণ বা দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বাড়লে কোম্পানির আর্থিক নমনীয়তাও কমতে পারে।
অন্যদিকে Meta বলছে, AI ব্যবহারে বিজ্ঞাপনের ফলাফল ও কনটেন্ট সুপারিশ ইতিমধ্যে উন্নত হচ্ছে। কোম্পানির মতে, নতুন AI পণ্য এবং বিদ্যমান ব্যবসায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। এই দুই অবস্থানই ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে মূল্যায়ন; নিশ্চিত আর্থিক ফল নয়।
বাংলাদেশের Facebook ও WhatsApp ব্যবহারকারীদের কী প্রভাব?
এই সিদ্ধান্ত Meta-র আর্থিক ঝুঁকির মূল্যায়ন, কোনো অ্যাপ বন্ধ করা বা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফি চালুর ঘোষণা নয়। তাই বাংলাদেশের Facebook, Instagram বা WhatsApp ব্যবহারকারীদের এখনই কোনো সেটিং বদলানো বা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো AI-তে এত অর্থ ব্যয় করছে কেন এবং সেই বিনিয়োগ থেকে বাস্তবে কত আয় হচ্ছে, তা বোঝার জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী কয়েক প্রান্তিকে Meta-র বিনিয়োগ, নগদ অর্থের প্রবাহ ও AI-সংশ্লিষ্ট আয়ের তথ্য এই প্রশ্নের আরও পরিষ্কার উত্তর দিতে পারে।



[…] Meta-র AI ব্যয় ও ঋণমানের পূর্বাভাস নিয়েও একই ধরনের উদ্বেগ সামনে এসেছে। […]