AI সার্ভার তৈরির জন্য চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫৯.৪ শতাংশ বেড়েছে। ১ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি হিসাবে, দেশটি এক মাসে ৫ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারের চিপ রপ্তানি করেছে। তবে এটি আগের মাসের তুলনায় বৃদ্ধি নয়; সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল আরও বেশি।
চিপ ও কম্পিউটার রপ্তানিতে কতটা বৃদ্ধি
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অক্টোবরে চিপ রপ্তানি হয়েছে ৫৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারের। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় বৃদ্ধি ২৫৯.৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে চিপ রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ৬০.৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হলেও মাসভিত্তিক হিসাবে অক্টোবরের পরিমাণ কিছুটা কম।
শুধু চিপ নয়, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানিও এক বছরে ৪৯৬.৬ শতাংশ বেড়ে ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, AI সেবার জন্য সার্ভার অবকাঠামো তৈরি এবং সার্ভারে ব্যবহৃত SSD-এর চাহিদা এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
AI সার্ভারের চাহিদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বড় AI মডেল চালাতে বিপুল তথ্য দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করতে হয়। এ কাজে শক্তিশালী প্রসেসরের পাশাপাশি দ্রুতগতির মেমোরি ও স্টোরেজ প্রয়োজন। দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতারা এসব যন্ত্রাংশের বড় সরবরাহকারী। তাই বিশ্বের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ বাড়ালে দেশটির চিপ রপ্তানিতেও তার প্রভাব পড়ে।
সরকারি প্রতিবেদনে চিপের দাম ও বিক্রির পরিমাণ উভয়ই উচ্চ পর্যায়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে রপ্তানির অর্থমূল্য বাড়ার পুরোটা যে বেশি সংখ্যক চিপ বিক্রির ফল, তা নয়। দামের পরিবর্তনও মোট অঙ্ককে প্রভাবিত করে।
মোট রপ্তানি বেড়েছে ৯৩.৭ শতাংশ
অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার সব পণ্য মিলিয়ে রপ্তানি হয়েছে ১১৫.২৮ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯৩.৭ শতাংশ বেশি। তবে তুলনাটিতে ক্যালেন্ডারের প্রভাব আছে। গত বছর অক্টোবরে থাকা চুসক ছুটি এবার সেপ্টেম্বরে পড়ায় চলতি অক্টোবর মাসে কাজের দিন বেশি ছিল। কাজের দিনের পার্থক্য বিবেচনায় নিলে দৈনিক গড় রপ্তানি বেড়েছে ৭৬ শতাংশ।
জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির মোট রপ্তানি ৯৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সরকার আশা করছে, নভেম্বরেই বার্ষিক রপ্তানি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। এটি এখনো পূর্বাভাস, অর্জিত ফল নয়।
বাংলাদেশে ফোন বা ল্যাপটপের দাম কি বদলাবে
এই পরিসংখ্যান থেকে বাংলাদেশের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের দাম বাড়বে কিংবা কমবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। AI সার্ভারের মেমোরি চিপ, ফোনের প্রসেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের বাজার এক নয়। বাংলাদেশে খুচরা দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক সরবরাহের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার, আমদানি খরচ ও স্থানীয় বিক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের ওপর।
এদিকে স্মার্টফোনের চিপের বাজারে আলাদা চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে BanglaGeek-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। দুটি তথ্য একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, AI অবকাঠামোর চাহিদা বাড়লেও সব ধরনের চিপের বাজার একইভাবে এগোচ্ছে না।


