বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চাইলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে আপনি HSC-এর পর Bachelor, অনার্স শেষে Master’s, নাকি PhD করতে চান। কারণ সব স্কলারশিপ সব ডিগ্রির জন্য নয়। জাপানের MEXT, দক্ষিণ কোরিয়ার GKS, চীনের CSC ও তুরস্কের Türkiye Scholarships-এ বিভিন্ন স্তরের সুযোগ আছে। অন্যদিকে Erasmus Mundus মূলত যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, আর Chevening যুক্তরাজ্যে মাস্টার্সের জন্য।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য scholarships for Bangladeshi students খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ডিগ্রি, বিষয়, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের ভিত্তিতে ছোট একটি তালিকা তৈরি করা। শুধু “fully funded scholarship” লিখে আবেদন করলে অনেক সময় ভুল প্রোগ্রামে সময় নষ্ট হয়। এই গাইডে সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সুযোগ, যোগ্যতা, আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান দেওয়া হলো।
Fully Funded Scholarship আসলে কী কী খরচ দেয়?
Fully funded scholarship সাধারণত টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা দেয়। কিছু প্রোগ্রাম বিমানভাড়া, স্বাস্থ্যবিমা, আবাসন বা ভিসা-সংক্রান্ত খরচও দেয়। তবে সব স্কলারশিপের সুবিধা এক নয়।
- Full tuition scholarship: শুধু সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ। বাসা, খাবার, যাতায়াত ও অন্য খরচ শিক্ষার্থীর থাকতে পারে।
- Partial scholarship বা tuition waiver: টিউশনের একটি অংশ কমে। বাকি খরচের ব্যবস্থা করতে হয়।
- Fully funded scholarship: টিউশন এবং নির্দিষ্ট জীবনযাত্রার সহায়তা থাকে। বিমানভাড়া, বিমা বা আবাসন দেওয়া হবে কি না, অফার লেটারে দেখতে হবে।
- Assistantship বা funded research position: বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বা শিক্ষাদানের কাজের বিনিময়ে বেতন বা স্টাইপেন্ড, কখনো টিউশন ছাড় পাওয়া যায়। শর্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের ওপর নির্ভর করে।
ধরুন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০% tuition waiver দিল। কিন্তু শহরে থাকার খরচ, স্বাস্থ্যবিমা ও যাতায়াতের টাকা দেয় না। সেটি আপনার জন্য পুরোপুরি বিনা খরচে পড়ার সুযোগ নয়। স্কলারশিপের নাম নয়, award letter-এ কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত তা আগে দেখুন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য ১১টি স্কলারশিপ
নিচের তালিকায় সরকারি, আন্তর্জাতিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কয়েক ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো প্রোগ্রামে বাংলাদেশি নাগরিকের যোগ্যতা, বিষয় বা আসনসংখ্যা বছরে বদলাতে পারে।
| স্কলারশিপ | দেশ/অঞ্চল | সাধারণ ডিগ্রি স্তর | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| MEXT | জাপান | Bachelor, Research, Master’s, PhD এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য বিভাগ | সরকারি অর্থায়ন; Embassy ও University Recommendation |
| GKS | দক্ষিণ কোরিয়া | Undergraduate, Graduate | কোরিয়া সরকারের বৃত্তি; আলাদা ট্র্যাক |
| CSC / CGS | চীন | Bachelor, Master’s, PhD | Type A/Type B-সহ ভিন্ন আবেদনপথ |
| Türkiye Scholarships | তুরস্ক | Associate, Bachelor, Master’s, PhD | বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লেসমেন্টসহ বিভিন্ন সহায়তা |
| Stipendium Hungaricum | হাঙ্গেরি | Bachelor, Master’s, Doctoral এবং কিছু অন্যান্য প্রোগ্রাম | টিউশন ছাড়, স্টাইপেন্ড ও আবাসন সহায়তা |
| Erasmus Mundus Joint Masters | ইউরোপ ও অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় | Master’s | একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ ডিগ্রি |
| DAAD | জার্মানি | মূলত Graduate ও Research | প্রোগ্রামভেদে অর্থায়ন ও যোগ্যতা আলাদা |
| Chevening | যুক্তরাজ্য | Master’s | নেতৃত্ব ও কাজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক নির্বাচন |
| Commonwealth Scholarships | যুক্তরাজ্য ও অংশীদার স্কিম | মূলত Master’s, PhD | স্কিমভেদে দেশ, বিষয় ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া |
| Fulbright Foreign Student Program | যুক্তরাষ্ট্র | Graduate | দেশভিত্তিক আবেদন ও নির্বাচন |
| University-funded RA/TA বা merit awards | যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ | Bachelor থেকে PhD, প্রোগ্রামভেদে | বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগের নিজস্ব ফান্ডিং |
সব প্রোগ্রামের আবেদন একই সময়ে খোলে না। একটি স্কলারশিপের আগের বছরের শেষ তারিখ দেখে নতুন বছরের জন্য আবেদন খোলা আছে ধরে নেবেন না।
HSC-এর পর কোন Fully Funded Undergraduate Scholarship পাওয়া যায়?
HSC পাস করে বিদেশে Bachelor করতে চাইলে প্রথমে MEXT Undergraduate, GKS Undergraduate, CSC-এর প্রযোজ্য Bachelor স্কিম, Türkiye Scholarships এবং Stipendium Hungaricum যাচাই করুন। এসব প্রোগ্রামের সব বিষয় বা ট্র্যাক প্রতি বছর সবার জন্য খোলা থাকে না।
১. Japan MEXT Scholarship
জাপান সরকারের MEXT-এ undergraduate ও research-সহ আলাদা ক্যাটাগরি আছে। বাংলাদেশে Embassy Recommendation-এর তথ্য, বয়সসীমা, পরীক্ষা এবং আবেদনপথ জাপান দূতাবাসের MEXT পেজে প্রকাশিত হয়। Undergraduate পর্যায়ে ইংরেজি, জাপানি, গণিত এবং বিভাগভেদে বিজ্ঞান পরীক্ষা থাকতে পারে। শুধু IELTS স্কোর থাকলেই নির্বাচন হয় না।
২. Global Korea Scholarship (GKS)
দক্ষিণ কোরিয়ার GKS-এ Undergraduate ও Graduate-এর আলাদা নির্দেশিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা এবং Embassy/University Track থাকে। আবেদন করার আগে Study in Korea-এর সরকারি পোর্টালে সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশিকা দেখে বয়স, ফলাফল, ভাষা ও বাংলাদেশি আবেদনকারীর ট্র্যাক মিলিয়ে নিন। TOPIK বা IELTS-এর শর্ত প্রোগ্রামভেদে আলাদা হতে পারে।
৩. Chinese Government Scholarship (CSC)
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য CSC Type A-তে Bachelor, Master’s, PhD এবং এক বছরের চীনা ভাষা প্রোগ্রামের সুযোগ ঘোষণা করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে টিউশন, আবাসন, বিমা, মাসিক ভাতা ও যাতায়াতের সহায়তার কথা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারির সময়সীমা অতীত। পরবর্তী চক্রের তারিখ নতুন বিজ্ঞপ্তি থেকে দেখতে হবে। বিস্তারিত চীনা দূতাবাসের ঘোষণায় আছে।
৪. Türkiye Scholarships
তুরস্কের সরকারি স্কলারশিপে Bachelor, Master’s ও PhD-এর পাশাপাশি কিছু অন্যান্য প্রোগ্রাম আছে। অফিসিয়াল যোগ্যতার পেজে Bachelor প্রার্থীর জন্য ন্যূনতম একাডেমিক অর্জন ৭০%, Graduate-এর জন্য ৭৫%, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে ৯০% এবং বয়সসীমার কথা বলা আছে। এই শতাংশকে বাংলাদেশের GPA-তে নিজের মতো রূপান্তর করবেন না। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকার পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
২০২৬ সালের সাধারণ আবেদনপর্ব ছিল ১০ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। পরের চক্রের নিশ্চিত তারিখ প্রকাশিত হলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
HSC-এর পর দেশের উপযোগিতা, সরাসরি ভর্তি ও Foundation-এর পার্থক্য জানতে HSC-এর পর বিদেশে পড়াশোনার গাইড দেখুন।
Master’s-এর জন্য কোন স্কলারশিপগুলো আগে দেখবেন?
Erasmus Mundus Joint Masters
একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয় মিলে পরিচালিত যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রাম। Erasmus+-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে সরাসরি আবেদন করেন। সেরা প্রার্থীদের জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ থাকতে পারে, যা অংশগ্রহণের খরচ এবং ভ্রমণ, ভিসা ও জীবনযাত্রায় সহায়তা করে। অধিকাংশ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে হলেও নির্দিষ্ট কোর্সের তারিখ আলাদা।
কী করবেন: প্রথমে catalogue থেকে নিজের Bachelor বিষয়ের সঙ্গে মেলে এমন ৩ থেকে ৫টি প্রোগ্রাম বাছুন। প্রতিটির prerequisite, ভাষার স্কোর, SOP, reference ও scholarship deadline আলাদা করে লিখুন।
DAAD Scholarship, Germany
DAAD একটি একক স্কলারশিপ নয়। এটি বিভিন্ন ফান্ডিং প্রোগ্রাম ও গবেষণার সুযোগের সমষ্টি। DAAD-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষ বা সম্পূর্ণ undergraduate ডিগ্রির জন্য অর্থায়ন ব্যতিক্রমী; Graduate ও গবেষণা পর্যায়ে প্রোগ্রাম খোঁজা বেশি প্রাসঙ্গিক। আপনার দেশ, বিষয় ও একাডেমিক অবস্থান দিয়ে DAAD funding database-এ ফিল্টার করুন।
Chevening Scholarship, UK
Chevening যুক্তরাজ্যের মাস্টার্স পর্যায়ের স্কলারশিপ। এটি সদ্য HSC পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। বর্তমান সরকারি যোগ্যতায় Bachelor ডিগ্রির পরে অন্তত ২,৮০০ ঘণ্টা কাজের অভিজ্ঞতা এবং ডিগ্রি শেষে নির্দিষ্ট সময় নিজ দেশে ফেরার অঙ্গীকারসহ অন্যান্য শর্ত আছে। Chevening-এর work experience নির্দেশিকা এবং Bangladesh পেজ দেখে আবেদন খোলা আছে কি না নিশ্চিত করুন।
University Scholarship ও Graduate Assistantship
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণাভিত্তিক Master’s ও PhD-তে RA/TA funding খোঁজা যায়। সব Master’s প্রোগ্রামে এই সুযোগ নেই। Department-এর funding page-এ “assistantship”, “tuition remission”, “stipend”, “funded graduate positions” শব্দগুলো খুঁজুন। গবেষণার বিষয় মেলে এমন অধ্যাপকের কাজ পড়ে যোগাযোগ করুন।
বিভিন্ন দেশের ডিগ্রি, ফান্ডিং ও আবেদন প্রক্রিয়ার তুলনা আছে বিদেশে মাস্টার্সের পূর্ণ গাইডে।
PhD-তে Scholarship, Fellowship নাকি Paid Position?
PhD-এর জন্য অনেক দেশে গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়নে চাকরির মতো paid doctoral position থাকে। অন্য কোথাও scholarship বা fellowship দেওয়া হয়। তাই শুধু “PhD scholarship” নয়, funded PhD position, doctoral researcher, PhD vacancy, research assistantship দিয়েও খুঁজুন।
আবেদনের আগে supervisor-এর গবেষণা, প্রকাশনা, প্রকল্পের অর্থায়ন, কাজের চুক্তি, বেতন বা স্টাইপেন্ড, টিউশন এবং স্বাস্থ্যবিমার শর্ত দেখুন। গবেষণার কাজের সঙ্গে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা না মিললে ভালো CGPA-ও যথেষ্ট নাও হতে পারে।
হাঙ্গেরি ও যুক্তরাজ্যের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
Stipendium Hungaricum: Sending Partner-এর ধাপ ভুলবেন না
হাঙ্গেরির এই সরকারি স্কলারশিপে টিউশন ফি ছাড়, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকে। কিন্তু শুধু অনলাইন ফরম পূরণ করলেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না। Stipendium Hungaricum-এর অফিসিয়াল গাইড অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিজের দেশের Sending Partner-এর নির্দেশনাও মানতে হয়। দেশভেদে যোগ্য বিষয়, মনোনয়ন ও অতিরিক্ত নথির নিয়ম আলাদা। ২০২৬/২৭ চক্রের শেষ তারিখ ছিল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬। পরের চক্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বাংলাদেশি আবেদনকারীর তালিকা ও নিয়ম নতুন করে মিলিয়ে নিন।
Commonwealth Shared Scholarships: বাংলাদেশি Master’s প্রার্থীদের জন্য
যুক্তরাজ্যের Commonwealth Shared Scholarships নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত Master’s কোর্সে দেওয়া হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ যোগ্য দেশের তালিকায় আছে। ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১০ নভেম্বর ২০২৬ খোলার এবং ৮ ডিসেম্বর ২০২৬, ১৬:০০ GMT বন্ধ হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি আবেদন ও স্কলারশিপ আবেদন দুটোই প্রয়োজন হতে পারে। এটি undergraduate বা PhD স্কলারশিপ নয়। কোর্সের তালিকা ও নির্দেশনা প্রকাশিত হলে তা দেখে আবেদন করুন।
n
Italy DSU Scholarship কি সবার জন্য?
ইতালির DSU বা আঞ্চলিক need-based সহায়তা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ আছে। কিন্তু এটি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নিয়মে চলে না। অঞ্চল, বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, প্রয়োজনীয় আয় ও সম্পদের নথি, ISEE Parificato, সময়সীমা এবং পরবর্তী বছরে ক্রেডিট অর্জনের শর্ত ভিন্ন হতে পারে।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা pre-enrolment হলেই DSU পাওয়া নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সরকারি DSU সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি বছরের call দেখে আবেদন করতে হবে। DSU award letter, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি এবং student visa তিনটি আলাদা সিদ্ধান্ত। স্কলারশিপের ফল বের হওয়ার আগেই কোন কোন খরচ বহন করতে হবে, তা হিসাব করুন।
CGPA কম হলে কি Fully Funded Scholarship পাওয়া সম্ভব?
সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সব প্রোগ্রামে নয়। কোনো স্কলারশিপে ন্যূনতম GPA কঠোর শর্ত। সেখানে ফল কম হলে ভালো SOP দিয়ে যোগ্যতার ঘাটতি পূরণ করা যায় না। অন্যদিকে গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, thesis, project, কাজের অভিজ্ঞতা, publication ও supervisor fit গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থীর CGPA ৩.১০ এবং ভালো সফটওয়্যার প্রকল্প আছে। তিনি নির্দিষ্ট CGPA cutoff-সহ স্কলারশিপে আবেদন না করে এমন research group খুঁজতে পারেন, যেখানে প্রোগ্রামের ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ হয় এবং তাঁর প্রকল্পগুলো সরাসরি প্রাসঙ্গিক। এতে নির্বাচনের নিশ্চয়তা নেই, তবে আবেদনটি বাস্তবসম্মত হয়।
Reddit-এ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন, “CGPA 3.0 নিয়ে fully funded master’s পাওয়া যাবে?”, “research paper না থাকলে কী হবে?” কিংবা “তৃতীয় বর্ষে এসে প্রস্তুতি শুরু করলে দেরি হয়ে গেছে?” উত্তর হলো, আগে hard eligibility যাচাই করুন। তারপর ৬ থেকে ১২ মাসে ভাষার স্কোর, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা, SOP ও রেফারেন্স উন্নত করার পরিকল্পনা করুন।
IELTS ছাড়া Scholarship পাওয়া যায়?
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপে IELTS-এর বদলে TOEFL, PTE, Duolingo বা নির্দিষ্ট শর্তে Medium of Instruction (MOI) গ্রহণ করা হতে পারে। আবার কোনো স্কিমে ভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। “IELTS ছাড়া” কথাটির অর্থ সাধারণত ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ লাগবে না এমন নয়।
দুটি আলাদা শর্ত দেখুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাগত যোগ্যতা এবং স্কলারশিপের নিজস্ব ভাষাগত যোগ্যতা। বিশ্ববিদ্যালয় MOI মেনে নিলেও স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষ আলাদা পরীক্ষা চাইতে পারে।
Scholarship Application-এর জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?
- পাসপোর্ট বা প্রোগ্রাম-অনুমোদিত পরিচয়পত্র
- SSC, HSC, Bachelor বা Master’s-এর সনদ ও transcript, ডিগ্রি স্তর অনুযায়ী
- IELTS/TOEFL বা প্রযোজ্য ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণ
- Statement of Purpose (SOP), Motivation Letter বা Personal Statement
- Academic CV এবং প্রাসঙ্গিক কাজ বা গবেষণার বিবরণ
- Letter of Recommendation (LOR), সাধারণত শিক্ষক বা supervisor থেকে
- Research proposal, portfolio বা writing sample, প্রয়োজন হলে
- কাজের অভিজ্ঞতা, internship, নেতৃত্ব বা স্বেচ্ছাসেবার প্রমাণ, যেখানে প্রযোজ্য
- আর্থিক অবস্থার প্রমাণ, বিশেষত need-based scholarship-এর জন্য
সব প্রোগ্রামে সব নথি লাগে না। কিছু আবেদনপত্রে notarization, attestation বা নির্দিষ্ট ভাষায় অনুবাদ প্রয়োজন হয়। নিজের নামে বানান, জন্মতারিখ ও একাডেমিক তথ্য সব নথিতে মিলিয়ে নিন।
Scholarship-এর জন্য SOP, LOR ও CV কীভাবে প্রস্তুত করবেন?
SOP বা Motivation Letter
“ছোটবেলা থেকে বিদেশে পড়ার স্বপ্ন” ধরনের সাধারণ বাক্যের বদলে লিখুন: কেন এই বিষয়, আপনার কী প্রাসঙ্গিক কাজ আছে, নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের কোন কোর্স বা গবেষণা আপনার লক্ষ্য পূরণ করবে এবং ডিগ্রি শেষে কী করবেন। একই SOP সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন না।
Letter of Recommendation
যিনি আপনার কাজ জানেন, তাঁর কাছ থেকে সুপারিশ নিন। শুধু বড় পদে আছেন এমন কারও সাধারণ প্রশংসাপত্রের চেয়ে আপনার প্রকল্প, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও কাজের উদাহরণসহ একটি চিঠি বেশি কার্যকর হতে পারে। রেফারিকে সময় দিন।
Academic CV
শিক্ষা, thesis, project, publication, গবেষণা দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও পুরস্কার প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে সাজান। ভুয়া publication, প্রশিক্ষণ বা পদবি যোগ করবেন না।
বিদেশে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন যেভাবে
- ডিগ্রি ও লক্ষ্য ঠিক করুন: Bachelor, Master’s, PhD এবং বিষয় নির্ধারণ করুন।
- ১০ থেকে ১৫টি সুযোগ খুঁজুন: সরকারি scholarship portal, বিশ্ববিদ্যালয়ের financial aid page এবং research vacancy দেখুন।
- যোগ্যতার তালিকা তৈরি করুন: নাগরিকত্ব, বয়স, GPA/CGPA, ডিগ্রি, ভাষা, অভিজ্ঞতা, বিষয় এবং funding coverage লিখুন।
- ৫ থেকে ৮টি বাস্তবসম্মত আবেদন বাছুন: সবগুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক না রেখে যোগ্যতা ও প্রোগ্রাম ফিট অনুযায়ী ভাগ করুন।
- নথি প্রস্তুত করুন: transcript, CV, SOP, LOR ও প্রয়োজনীয় অনুবাদ আগে শেষ করুন।
- আলাদা deadline tracker রাখুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, স্কলারশিপ, sending partner nomination ও visa deadline এক নয়।
- সরকারি পোর্টালে আবেদন করুন: প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের জন্য দুটি পৃথক আবেদন জমা দিন।
- ইমেইল ও পোর্টাল নিয়মিত দেখুন: সাক্ষাৎকার, পরীক্ষা, অতিরিক্ত নথি বা nomination-এর নির্দেশ আসতে পারে।
- Offer letter বিশ্লেষণ করুন: অর্থের পরিমাণ, মেয়াদ, শর্ত, নিজের খরচ ও গ্রহণের সময়সীমা দেখুন।
- ভিসার প্রস্তুতি নিন: scholarship confirmation থাকলেও admission, financial evidence ও visa approval আলাদা প্রক্রিয়া।
প্রথমবার আবেদন করলে পুরো বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া বুঝতে বাংলাদেশ থেকে Study Abroad গাইড পড়তে পারেন।
২০২৬ সালের তথ্য থেকে ২০২৭-এর জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই করা কয়েকটি উদাহরণ: Erasmus Mundus-এর অনেক প্রোগ্রামে সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন হয়, তবে কোর্সভেদে আলাদা। Türkiye Scholarships-এর ২০২৬ সাধারণ আবেদন ছিল ১০ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি। Stipendium Hungaricum-এর ২০২৬/২৭ চক্রের সময়সীমা ছিল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬। চীনের CSC Type A-এর বাংলাদেশি বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬ সালের সময়সীমা ছিল ১০ জানুয়ারি। এগুলো পরের বছরের নিশ্চিত তারিখ নয়।
পরবর্তী intake-এর জন্য এখন থেকেই scholarship shortlist, ভাষার পরীক্ষা, SOP, রেফারি ও নথি প্রস্তুত করুন। নতুন call প্রকাশিত হলে আগে সেটির eligibility ও deadline সংশোধন করুন। পুরোনো তারিখ কপি করে আবেদন করবেন না।
Fully Funded Scholarship পেলেও শুরুতে কত টাকা লাগতে পারে?
অফার হাতে পাওয়ার আগে বা পরে passport, ভাষার পরীক্ষা, document translation, courier, visa fee, medical test, travel, accommodation deposit এবং প্রথম মাসের খরচ লাগতে পারে। কোনো স্কলারশিপ বিমানভাড়া দেয়, কোনোটি দেয় না। কেউ পরে reimbursement করে।
একটি সহজ বাজেট শিট বানান: আবেদনের আগে + ভিসার সময় + যাওয়ার আগে + প্রথম স্টাইপেন্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত। যেসব খরচ scholarship থেকে ফেরত পাওয়া যাবে, সেগুলোও আগে নিজের পকেট থেকে দিতে হতে পারে। পুরো টাকা জোগাড়ের উপায় না জেনে শুধু “fully funded” দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
আরেকটি বিষয় মনে রাখুন, scholarship থাকলেই সব দেশের visa financial proof স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয় না। নির্দিষ্ট দেশের immigration authority কোন নথি গ্রহণ করে তা দেখুন।
Scholarship Scam ও ভুয়া এজেন্ট চিনবেন কীভাবে?
- “১০০% guaranteed scholarship” বা “ভিসা নিশ্চিত” বললে সতর্ক হোন।
- আবেদন ফি দাবি করলে অফিসিয়াল পোর্টালে ফি আছে কি না যাচাই করুন। কিছু সরকারি স্কলারশিপে আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
- ব্যক্তিগত বিকাশ/নগদ নম্বরে “সিট বুকিং” বা “nomination fee” পাঠাবেন না।
- ভুয়া bank statement, transcript বা IELTS result তৈরি করবেন না। এতে আবেদন ও ভবিষ্যৎ ভিসা ঝুঁকিতে পড়ে।
- ইমেইলের domain, scholarship portal ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
বিশেষ করে Stipendium Hungaricum-এর সরকারি আবেদন নির্দেশিকায় অনলাইন আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষায় ফি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কোন স্কলারশিপ আপনার জন্য উপযুক্ত? তিনটি বাস্তব পরিস্থিতি
পরিস্থিতি ১: HSC পাস, পরিবার থেকে বড় বাজেট পাওয়া সম্ভব নয়
প্রথমে MEXT Undergraduate, GKS Undergraduate, CSC এবং Türkiye Scholarships-এর বর্তমান যোগ্যতা দেখুন। যে প্রোগ্রামে বয়স, ফলাফল, ভাষা বা বিষয় মেলে না, সেটি বাদ দিন। Undergraduate full funding অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, তাই দেশে Bachelor শুরু করে পরে funded Master’s-এর পথও পরিকল্পনায় রাখুন।
পরিস্থিতি ২: Bachelor শেষ, CGPA মাঝারি, ভালো প্রকল্প আছে
Erasmus Mundus-এর subject match, DAAD-এর প্রাসঙ্গিক প্রোগ্রাম এবং গবেষণাভিত্তিক university funding খুঁজুন। গবেষণার দক্ষতা ও কাজের প্রমাণ তুলে ধরুন। কঠোর GPA cutoff পূরণ না হলে ওই প্রোগ্রামে সময় ব্যয় করবেন না।
পরিস্থিতি ৩: চাকরির অভিজ্ঞতা আছে, UK Master’s করতে চান
Chevening-এর কাজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও দেশে ফেরার শর্ত দেখুন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব merit scholarship এবং অন্যান্য funding খুঁজুন। একটি প্রোগ্রামের ওপর সব আশা রাখবেন না।
বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. বাংলাদেশ থেকে Fully Funded Scholarship পাওয়া কি সত্যিই সম্ভব?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সরকারি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারেন। তবে নাগরিকত্ব, ডিগ্রি, বিষয়, একাডেমিক যোগ্যতা এবং নির্বাচনের শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদন করলেই পাওয়া যায় না।
২. HSC GPA 5.00 না থাকলে কি বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে?
সব স্কলারশিপে GPA 5.00 বাধ্যতামূলক নয়। কোন স্কিম কীভাবে বাংলাদেশের GPA মূল্যায়ন করে, সেটি তাদের বর্তমান নির্দেশিকায় দেখুন। কিছু প্রোগ্রামে কঠোর ন্যূনতম ফলাফল থাকে।
৩. CGPA 3.00 বা 3.20 নিয়ে কি funded Master’s সম্ভব?
কিছু প্রোগ্রামে সম্ভব হতে পারে। প্রথমে ন্যূনতম CGPA ও ডিগ্রির যোগ্যতা মিলিয়ে দেখুন। তারপর subject fit, SOP, research, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স উন্নত করুন। কোনো নির্দিষ্ট CGPA-তে স্কলারশিপ নিশ্চিত নয়।
৪. IELTS ছাড়া কি আবেদন করা যাবে?
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্প পরীক্ষা বা MOI গ্রহণ করে, কিছু করে না। বিশ্ববিদ্যালয় এবং scholarship উভয়ের ভাষাগত শর্ত আলাদা করে যাচাই করতে হবে।
৫. Research paper না থাকলে কি Master’s scholarship পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, সব taught Master’s scholarship-এ research paper প্রয়োজন হয় না। গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রিতে thesis, project বা গবেষণার অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
৬. National University থেকে পড়লে কি আবেদন করা যাবে?
স্বীকৃত ডিগ্রি ও নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের academic equivalency পূরণ করলে আবেদন করা যায়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চার বছরের Bachelor, নির্দিষ্ট credit বা পূর্বশিক্ষার বিষয় চাইতে পারে।
৭. Study gap থাকলে কি স্কলারশিপে সমস্যা হবে?
কিছু স্কিমে graduation year বা বয়সের শর্ত আছে, অন্যগুলোতে নেই। Gap থাকলে সেই সময়ের কাজ, দক্ষতা অর্জন বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সত্যভাবে ব্যাখ্যা করুন।
৮. Scholarship পেলে কি bank statement লাগে না?
সব দেশে একই নিয়ম নয়। scholarship award কত অর্থ কভার করে এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্তৃপক্ষ কোন financial evidence চায়, তা আলাদা করে দেখুন।
৯. একই সঙ্গে একাধিক স্কলারশিপে আবেদন করা যায়?
সাধারণভাবে ভিন্ন প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়, কিন্তু কিছু স্কিমে একাধিক আবেদন বা একই সঙ্গে দুটি award গ্রহণে বিধিনিষেধ থাকে। প্রতিটি call-এর শর্ত পড়ুন।
১০. Scholarship পেতে কি এজেন্সি লাগে?
অনেক সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপে শিক্ষার্থী সরাসরি আবেদন করেন। এজেন্সি বাধ্যতামূলক ধরে নেবেন না। সংশ্লিষ্ট সরকারি আবেদন পোর্টাল ব্যবহার করুন।
১১. ২০২৭ সালের স্কলারশিপ আবেদন কখন শুরু হবে?
একটি সাধারণ তারিখ নেই। Erasmus Mundus-এর প্রতিটি কোর্স, MEXT-এর ট্র্যাক, GKS, CSC ও অন্য প্রোগ্রামের আলাদা বিজ্ঞপ্তি থাকে। ২০২৬ সালের সময়সীমা দেখে ২০২৭-এর নিশ্চিত তারিখ ধরে নেবেন না।
১২. Scholarship পেলেই কি student visa নিশ্চিত?
না। ভর্তির অফার, scholarship award এবং visa approval আলাদা সিদ্ধান্ত। ভিসার সময় পরিচয়, অর্থের প্রমাণ, উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দেশের নির্দিষ্ট নিয়ম পূরণ করতে হয়।
আজ থেকেই যে কাজগুলো শুরু করবেন
একটি spreadsheet-এ স্কলারশিপের নাম, দেশ, ডিগ্রি, আপনার যোগ্যতা, official link, deadline, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কী কী খরচ কভার করে এবং নিজের বাকি খরচ লিখুন। প্রথম সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি বাস্তবসম্মত সুযোগ যাচাই করুন। পরের সপ্তাহে CV, SOP-এর খসড়া ও সম্ভাব্য রেফারিদের তালিকা তৈরি করুন। এভাবেই “বিদেশে পড়তে চাই” ভাবনা থেকে একটি বাস্তব আবেদন পরিকল্পনা তৈরি হবে।



[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] […]
[…] জন্য অন্যান্য অর্থায়নের ধারণা পেতে বিদেশে স্কলারশিপের গাইড দেখতে […]
[…] […]