ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান Meta-র প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা CMA। ৩০ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ঘোষণায় সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন শর্তের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য ব্যবসার ওয়েবসাইটের লেখা নিজেদের পণ্য, বিশেষ করে AI সুবিধা তৈরিতে ব্যবহারের সুযোগ Meta অন্যায্যভাবে পাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
কেন Meta-র শর্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে?
যুক্তরাজ্যের Competition and Markets Authority (CMA) বলছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সেবা ব্যবহার করে পাঠক বা গ্রাহকের কাছে পৌঁছান এমন ব্যবসাগুলো প্রস্তাবিত শর্ত মেনে নিতে বাধ্য বোধ করতে পারে। শর্তগুলো কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট সংগ্রহ করে Meta নিজস্ব সেবা উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারত বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্বেগ।
এখানে মূল প্রশ্ন শুধু AI প্রশিক্ষণ নয়। কোনো বড় প্ল্যাটফর্মের ব্যবসায়িক সেবা ব্যবহার করতে গিয়ে প্রকাশক নিজের ওয়েবসাইটের লেখা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। CMA প্রথমে যাচাই করবে, যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট বাজারে Meta প্রভাবশালী অবস্থানে আছে কি না। এরপর সেই অবস্থানের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করবে।
নতুন শর্ত কি এখনই কার্যকর হচ্ছে?
না। প্রস্তাবিত পরিবর্তন প্রথমে ৩০ অক্টোবর চালুর কথা ছিল। পরে তা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। প্রকাশক ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর আপত্তির পর ২৮ অক্টোবর Meta জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তনটি স্থগিত থাকবে। ফলে আপাতত আগের বাণিজ্যিক শর্তই বহাল থাকছে।
তদন্ত শুরু হওয়া মানেই আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া নয়। CMA স্পষ্ট জানিয়েছে, Meta প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
Meta কী বলছে?
Meta অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, এই তদন্তের ভিত্তি নেই এবং প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া তারা শর্ত পরিবর্তন করবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগকে Meta স্বাগত জানিয়েছে।
বাংলাদেশের ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য এর অর্থ কী?
এই তদন্ত যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা আইন ও সেখানকার বাজারকে কেন্দ্র করে। তাই এর ফলে বাংলাদেশের ওয়েবসাইটের জন্য নতুন কোনো নিয়ম এখনই চালু হয়েছে, এমন নয়। তবে সংবাদমাধ্যম, ব্লগ ও ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের মালিকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ: সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রচারের সুবিধা নেওয়া আর নিজের কনটেন্ট অন্য প্রতিষ্ঠানের AI পণ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া এক বিষয় নয়।
ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ব্যবহারের শর্ত, AI ক্রলারের নির্দেশনা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা আলাদাভাবে বোঝা দরকার। এ বিষয়ে AI প্রশিক্ষণের জন্য robots.txt-এ অভিন্ন সংকেতের প্রস্তাব নিয়েও পড়তে পারেন। তবে শুধু robots.txt থাকলেই সব বাণিজ্যিক বা আইনি প্রশ্নের সমাধান হয়ে যায় না।

