Popular Now
স্কয়ার গ্রুপে চাকরির আবেদন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশের প্রতীকী ছবি

Square Group Job Circular: স্কয়ার কোম্পানিতে চাকরি, যোগ্যতা ও আবেদন

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাডক্লিফ ক্যামেরা ভবন, Commonwealth Scholarship গাইড

Commonwealth Scholarship Bangladesh: UK-তে Masters ও PhD স্কলারশিপের যোগ্যতা, আবেদন ও খরচ

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতীকী ইলাস্ট্রেশন

PRAN RFL Job Circular: প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ, যোগ্যতা ও আবেদন

ধোঁয়াশায় ঢাকা নগরীর ভবন ও আকাশ

বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নতুন রেকর্ড, ৪২৬.৮ পিপিএমে পৌঁছাল মাত্রা

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর গড় ঘনত্ব পৌঁছেছে ৪২৬.৮ পিপিএমে। মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মাত্রাও নতুন রেকর্ডে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO₂) পরিমাণ আবারও রেকর্ড ছুঁয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বৈশ্বিক গড় ঘনত্ব ছিল ৪২৬.৮ পিপিএম (ppm)। এটি শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মাত্রাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সংস্থাটি ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ২২তম Greenhouse Gas Bulletin-এ এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ শুধু গ্যাসের পরিমাণ নিয়ে নয়। বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘদিন থেকে যাওয়া এসব গ্যাস পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে। ফলে ভবিষ্যতে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

৪২৬.৮ পিপিএম মানে আসলে কী?

পিপিএম বা Parts Per Million হলো কোনো উপাদানের ঘনত্ব বোঝানোর একক। ৪২৬.৮ পিপিএম কার্বন ডাই-অক্সাইডের অর্থ হলো, শুষ্ক বাতাসের প্রতি ১০ লাখ অণুর মধ্যে গড়ে প্রায় ৪২৬.৮টি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু রয়েছে। সংখ্যাটি ছোট মনে হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই গ্যাসের ভূমিকা অনেক বড়।

WMO বলছে, ১৭৫০ সালের কাছাকাছি শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব ছিল প্রায় ২৭৮ পিপিএম। ২০২৫ সালের ৪২৬.৮ পিপিএম হলো সেই মাত্রার প্রায় ১৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। দুটি শতাংশের পার্থক্য মনে রাখা জরুরি।

কত দ্রুত বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড?

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বেড়েছে ২.৮ পিপিএম। এটি আগের বছরের ব্যতিক্রমী বড় বৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম হলেও সাম্প্রতিক দশ বছরের গড় বৃদ্ধির চেয়ে বেশি।

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাও উদ্বেগের। ১৯৬০-এর দশকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বছরে গড়ে প্রায় ০.৮ পিপিএম করে বাড়ত। ২০১১ থেকে ২০২০ সালের দশকে সেই হার পৌঁছে প্রায় ২.৪ পিপিএমে। অর্থাৎ, কয়েক দশকের ব্যবধানে বৃদ্ধির গতি প্রায় তিন গুণ হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বোঝায়। এটি কোনো একটি বছরে কলকারখানা, যানবাহন বা অন্য উৎস থেকে ঠিক কত গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে, সেই পরিমাণ নয়। নিঃসৃত গ্যাসের একাংশ বন ও সমুদ্র শোষণ করলেও বাকি অংশ বায়ুমণ্ডলে জমা হতে থাকে।

শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, আরও দুই গ্যাসের রেকর্ড

WMO-র হিসাবে ২০২৫ সালে বায়ুমণ্ডলে মিথেনের গড় ঘনত্ব ছিল ১,৯৪৮ পিপিবি (ppb) এবং নাইট্রাস অক্সাইডের ঘনত্ব ৩৩৯.১ পিপিবি। পিপিবি মানে প্রতি ১০০ কোটি অণুতে সংশ্লিষ্ট গ্যাসের অণুর সংখ্যা।

শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় মিথেনের ঘনত্ব এখন প্রায় ১৬৭ শতাংশ বেশি এবং নাইট্রাস অক্সাইডের ঘনত্ব প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। এই দুই গ্যাসও পৃথিবীর উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখে। মিথেন আসে প্রাকৃতিক জলাভূমির পাশাপাশি গবাদিপশু, ধানচাষ, জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো উৎস থেকে।

গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়লে আবহাওয়ায় কী পরিবর্তন আসে?

সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পর ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপের একটি অংশ মহাকাশে ফিরে যাওয়ার কথা। গ্রিনহাউস গ্যাস সেই তাপের কিছু অংশ আটকে রাখে। স্বাভাবিক মাত্রায় এই প্রক্রিয়া পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখে। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডে এসব গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে গেলে অতিরিক্ত তাপ আটকে যায় এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।

WMO প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর কারণে সৃষ্ট উষ্ণায়ন-প্রভাব বা radiative forcing প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির প্রায় ৮১ শতাংশের জন্য দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড। এটি বাতাসে মোট গ্যাসের পরিমাণ ৫৬ শতাংশ বেড়েছে, এমন হিসাব নয়; এখানে তাপ আটকে রাখার অতিরিক্ত প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে।

প্রকৃতি কি অতিরিক্ত কার্বন শোষণ করতে পারছে না?

বন, উদ্ভিদ, মাটি ও সমুদ্র প্রতিদিনই বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডে প্রতি বছর যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হয়, তার সবটা এসব প্রাকৃতিক ব্যবস্থা শোষণ করতে পারে না। ফলে মোট ঘনত্ব বাড়তেই থাকে।

২০২৩ ও ২০২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় খরা, দাবানল ও শুষ্ক পরিবেশের কারণে স্থলভাগের কার্বন শোষণক্ষমতা কমে গিয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বাড়া থামেনি। WMO সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালেও এই ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এই খবর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা বাড়লে উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি, পানির প্রাপ্যতা ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নানা ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। নিচু উপকূলীয় এলাকা ও ঘনবসতির কারণে বাংলাদেশ এসব পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ ও অতিবৃষ্টির মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও আগাম সতর্কব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ছে।

একটি বিষয় পরিষ্কার: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি মানে শুধু শহরের ধোঁয়া বা চোখে দেখা দূষণ নয়। CO₂ একটি অদৃশ্য গ্যাস, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর পড়ে। তাই স্থানীয় বায়ুদূষণের সূচক এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের বৈশ্বিক ঘনত্বকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

পরিস্থিতি বদলাতে কী প্রয়োজন?

বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব স্থিতিশীল করতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কম-কার্বন উৎসের ব্যবহার, শিল্প ও পরিবহনে জ্বালানি সাশ্রয়, মিথেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং বন ও প্রাকৃতিক কার্বন শোষণব্যবস্থা সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘদিন প্রভাব রাখে। তাই একটি বছরের বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে গেলেই সমস্যা শেষ হয়ে যায় না। WMO-র সর্বশেষ পরিসংখ্যানের মূল বার্তাও সেটি: ঘনত্ব এখনো বাড়ছে, আর প্রতিটি নতুন বৃদ্ধি ভবিষ্যতের উষ্ণায়নের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *