অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Telegram ব্যবহার করেন? অ্যাপটি অনেক দিন আপডেট না করে থাকলে এখনই সংস্করণ নম্বর দেখে নেওয়া ভালো। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান NebuSec জানিয়েছে, Telegram-এর পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে এমন একটি ত্রুটি ছিল, যা অন্য দুটি দুর্বলতার সঙ্গে ব্যবহার করে ফোনে ক্ষতিকর কোড চালানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে একটি ভয়েস কল ধরার পর হামলার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা বলেছেন গবেষকেরা।
২৯ অক্টোবর ২০২৬ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে এটি নতুন করে তৈরি হওয়া ত্রুটি নয়। Telegram গত সেপ্টেম্বরেই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের 12.10.4 সংস্করণে সংশ্লিষ্ট কোড সংশোধন করেছে। এখন পর্যন্ত বাস্তবে এই পদ্ধতিতে কারও ফোন আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
কোন Telegram সংস্করণে সমস্যা ছিল?
NebuSec-এর দাবি অনুযায়ী, Telegram for Android 8.6.2 থেকে 12.10.3 পর্যন্ত সংস্করণগুলোতে সমস্যাটি ছিল। অর্থাৎ ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত বেশ কিছু পুরোনো সংস্করণ এর আওতায় পড়ে। গবেষকেরা ARM64 প্রসেসরযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যক্তিগত ভয়েস কলের মাধ্যমে পরীক্ষাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে iPhone, কম্পিউটারের Telegram অ্যাপ কিংবা গ্রুপ কলে একই ধরনের আক্রমণ কাজ করে, এমন প্রমাণ গবেষকেরা দেখাননি। ফলে সব Telegram ব্যবহারকারী একই ঝুঁকিতে আছেন বলা ঠিক হবে না।
কল ধরার পর কীভাবে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?
Telegram-এ কল চলাকালে দুই ফোনের অ্যাপ নিজেদের মধ্যে কিছু প্রযুক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করে। মাইক্রোফোন, ক্যামেরা ও ভিডিওর অবস্থাসংক্রান্ত একটি বার্তা ঠিকমতো পরীক্ষা না করায় অ্যাপ ভুল মেমোরি পড়তে পারত। The Hacker News Telegram-এর প্রকাশিত পুরোনো ও সংশোধিত সোর্স কোড পর্যালোচনা করে এই ভুলের সঙ্গে মিলে যায় এমন পরিবর্তন শনাক্ত করেছে।
NebuSec বলেছে, এই ত্রুটির সঙ্গে আরও একটি তথ্য ফাঁসের দুর্বলতা এবং অ্যান্ড্রয়েডের উচ্চতর অনুমতি পাওয়ার আলাদা দুর্বলতা যুক্ত করে তারা পরীক্ষায় ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে। অর্থাৎ শুধু এই একটি ত্রুটি থাকলেই যে যেকোনো ফোন পুরোপুরি হ্যাক হয়ে যাবে, এমন নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভিডিওতে পরীক্ষার ফল দেখানো হলেও সম্পূর্ণ আক্রমণপদ্ধতির স্বাধীন যাচাই প্রকাশিত হয়নি।
Telegram-এর বক্তব্য কী?
NebuSec-এর প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য অনুযায়ী, Telegram তাদের পাঠানো প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ত্রুটি ব্যবহার করে সরাসরি কোড চালানো সম্ভব বলে একমত হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে Telegram-এর বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ত্রুটিটির জন্য তখনও কোনো CVE শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়নি।
নিজের ফোন নিরাপদ রাখতে যা করবেন
প্রথমে Google Play Store থেকে Telegram আপডেট করুন। এরপর অ্যাপ খুলে Settings-এ যান। পৃষ্ঠার নিচে সংস্করণ নম্বর দেখুন। সেখানে 12.10.4 বা তার পরের সংস্করণ থাকলে আলোচিত ত্রুটির সংশোধন আপনার অ্যাপে রয়েছে। পুরোনো সংস্করণ হলে আপডেট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপরিচিত অ্যাকাউন্টের কল না ধরাই ভালো।
চাইলে Telegram-এর Settings → Privacy and Security → Calls থেকে কে আপনাকে কল করতে পারবেন, সেটিও সীমিত করতে পারেন। এই সেটিং ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু অ্যাপ আপডেট করার বিকল্প নয়।
বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে অনেকে Telegram ব্যবহার করেন পড়াশোনা, কাজ, বিভিন্ন কমিউনিটি ও ফাইল আদান-প্রদানের জন্য। তাই অচেনা নম্বর থেকে আসা কলের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং অ্যাপের নতুন সংস্করণ ব্যবহার করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ত্রুটিটি ইতিমধ্যে সংশোধিত। আতঙ্কিত হওয়ার বদলে কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে অ্যাপ আপডেট করাই এখন কার্যকর পদক্ষেপ।


