ভর্তি হওয়ার সময় বই, পোশাক, যাতায়াত আর প্রতিষ্ঠানের ফি একসঙ্গে সামলানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ভর্তি সহায়তা একটি সরকারি ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকে সহায়তার অঙ্ক এক নয়। সবচেয়ে ভালো বিষয়, আবেদন ও স্ট্যাটাস দেখার জন্য নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল আছে।
PMEAT Admission Assistance: কত টাকা পাওয়া যায়?
| শিক্ষার স্তর | ২০২৬ নির্দেশিকা অনুযায়ী ভর্তি সহায়তা |
|---|---|
| মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ–১০ম) | ৪,০০০ টাকা |
| উচ্চমাধ্যমিক / সমমান | ৬,০০০ টাকা |
| স্নাতক / সমমান | ৮,০০০ টাকা |
এই অঙ্কগুলো সরকারি ই-ভর্তি সহায়তা সিস্টেম-এ বর্তমান ২০২৬ নির্দেশিকার অংশ হিসেবে দেওয়া। পুরোনো খবরে ৫,০০০, ৮,০০০ বা ১০,০০০ টাকা দেখলে সেটিকে ২০২৬-এর বর্তমান অঙ্ক ভাববেন না।
কারা ভর্তি সহায়তার আবেদন করতে পারেন?
সাধারণত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ভর্তি হওয়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্তে আবেদন করতে পারেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশ প্রয়োজন। পারিবারিক অবস্থা, সংশ্লিষ্ট স্তরে ভর্তি এবং সমর্থনকারী কাগজপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। আবেদন করলেই টাকা পাওয়া নিশ্চিত নয়।
অনলাইনে আবেদন করার ধাপ
- eservice.pmeat.gov.bd/admission পোর্টালে যান এবং চলমান বিজ্ঞপ্তির স্তর ও সময়সীমা পড়ুন।
- নির্ধারিত প্রত্যয়ন/সুপারিশ ফরম ডাউনলোড করে নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাক্ষর নিন।
- নতুন ব্যবহারকারী হলে রেজিস্ট্রেশন করে মোবাইল নম্বর যাচাই করুন।
- লগইন করে শিক্ষার্থীর পরিচয়, প্রতিষ্ঠান, ভর্তি ও আর্থিক তথ্য পূরণ করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে সাবমিট করুন। আবেদন নম্বর/কপি সংরক্ষণ করুন।
- পরবর্তী সময়ে ড্যাশবোর্ডে আবেদন স্ট্যাটাস দেখুন। নির্বাচিত হলে SMS-ও পাঠানো হয়।
একই পোর্টালে সব স্তরের আবেদন একই দিনে খোলা থাকে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাস্তরের চলতি বিজ্ঞপ্তি না থাকলে নতুন আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
যেসব কাগজপত্র আগে প্রস্তুত করবেন
- শিক্ষার্থীর ছবি ও স্বাক্ষর; জন্মনিবন্ধন এবং থাকলে NID।
- অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজন অনুযায়ী বাবা-মায়ের NID।
- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন।
- প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নির্ধারিত ফরমে সুপারিশ/প্রত্যয়ন।
- শিক্ষার্থী বা গ্রহণযোগ্য অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ (চেকের পাতা বা স্টেটমেন্ট)।
- বিশেষ কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়।
নাম, জন্মতারিখ, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও রাউটিং নম্বর একটি অঙ্কও ভুল থাকলে অর্থ পেতে জটিলতা হতে পারে। সাবমিট করার আগে অন্তত দুবার মিলিয়ে নিন।
আবেদন স্ট্যাটাস ও টাকা কবে পাবেন?
পোর্টালের ড্যাশবোর্ডে আবেদন যাচাই ও নির্বাচিত হওয়ার অবস্থা দেখা যায়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে মোবাইল SMS আসে। অর্থ পাঠানোর সময় সম্পর্কে সরকারি পোর্টালের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন সময়-উল্লেখ আছে; তাই নির্দিষ্ট দিনে টাকা আসার নিশ্চয়তা ধরে পরিকল্পনা করবেন না। যাচাইয়ের অগ্রগতি ড্যাশবোর্ডে দেখুন এবং প্রয়োজন হলে পোর্টালের Helpdesk ব্যবহার করুন।
বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পরিকল্পনায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তারিখের তালিকা এবং MBBS, ইঞ্জিনিয়ারিং ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা—দুটি আলাদা বিষয় হিসেবে দেখুন।
সচরাচর প্রশ্ন
PMEAT ভর্তি সহায়তা কত টাকা?
২০২৬ নির্দেশিকা অনুযায়ী স্তরভেদে ৪,০০০, ৬,০০০ ও ৮,০০০ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আবেদন লিংক কোনটি?
https://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission/
প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ ছাড়া আবেদন করা যাবে?
অফিসিয়াল ধাপে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নির্ধারিত ফরমের সুপারিশ প্রয়োজন।
বিকাশে টাকা পাওয়া যায়?
পোর্টালে গ্রহণযোগ্য মোবাইল/ব্যাংক হিসাবের নিয়ম আছে; কোন হিসাব গ্রহণ হবে তা চলতি আবেদন ফরমে যাচাই করুন।
আবেদন জমার পর কিভাবে খবর পাব?
লগইন করে ড্যাশবোর্ডে স্ট্যাটাস দেখুন; নির্বাচিত হলে SMS-ও জানানো হয়।


