হাঙ্গেরিতে টিউশন ফি ছাড়া Bachelor’s, Master’s বা PhD করতে চান? Stipendium Hungaricum Bangladesh হলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্কলারশিপের সুযোগ। তবে শুধু অনলাইনে ফরম পূরণ করলেই হয় না। বাংলাদেশি Sending Partner-এর মনোনয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন এবং শেষ পর্যন্ত স্কলারশিপ বরাদ্দ, সব কটি ধাপ পার হতে হয়।
সর্বশেষ অবস্থা (৩ নভেম্বর ২০২৬): ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্তর্জাতিক আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টা CET। ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের নতুন Call for Applications ও বাংলাদেশ-নির্দিষ্ট নিয়ম নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগের সময়সীমা নতুন বছরের জন্য ব্যবহার করবেন না। নতুন বিজ্ঞপ্তি দেখুন অফিশিয়াল আবেদন পাতায়।
Stipendium Hungaricum Scholarship কী?
এটি হাঙ্গেরি সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। Tempus Public Foundation আবেদন ও বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাংলাদেশ অংশগ্রহণকারী Sending Partner দেশের তালিকায় আছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য কোন ডিগ্রি ও কোন বিষয় উন্মুক্ত, তা প্রতি বছরের চুক্তি ও আবেদন পোর্টালে দেখে নিশ্চিত হতে হবে। দেশভিত্তিক অনুমোদিত বিষয় ও Sending Partner যাচাই করুন।
স্কলারশিপে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী সাধারণ সুবিধা ছিল:
- টিউশন ফি: অনুমোদিত কোর্সে সম্পূর্ণ মওকুফ।
- Bachelor’s ও Master’s: মাসে HUF 43,700 জীবনযাত্রার ভাতা।
- PhD: প্রথম চার সেমিস্টারে মাসে HUF 140,000 এবং পরের চার সেমিস্টারে HUF 180,000।
- আবাসন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে জায়গা অথবা মাসে HUF 40,000 আবাসন সহায়তা, প্রযোজ্য শর্তে।
- স্বাস্থ্যসেবা: প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা।
এটি কি সম্পূর্ণ খরচ বহন করে? সবসময় নয়। বিশেষ করে বুদাপেস্টে ভাড়া, খাবার, পরিবহন, শীতের পোশাক, ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় ও বিমানভাড়ার জন্য নিজস্ব অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। HUF 40,000 আবাসন সহায়তা দিয়ে বেসরকারি বাসার পুরো ভাড়া মিটবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই “fully funded” কথাটি দেখে ব্যক্তিগত বাজেট বাদ দেবেন না।
বাংলাদেশ থেকে কারা আবেদন করতে পারবেন?
প্রথম শর্ত হলো বাংলাদেশি নাগরিকত্ব এবং বাংলাদেশ Sending Partner-এর অধীনে আবেদনযোগ্য প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া। ২০২৬/২৭-এর সাধারণ নির্দেশনায় শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করার শর্ত ছিল, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। সর্বোচ্চ বয়সের বিষয়ে Sending Partner আলাদা শর্ত দিতে পারে।
ডিগ্রি অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা: Bachelor’s-এর জন্য প্রাসঙ্গিক মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা, Master’s-এর জন্য গ্রহণযোগ্য স্নাতক ডিগ্রি, আর PhD-এর জন্য উপযুক্ত পূর্ববর্তী ডিগ্রি ও গবেষণার প্রস্তুতি প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বিষয়ভিত্তিক শর্ত, ভাষা পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার বা প্রবেশিকা পরীক্ষা থাকতে পারে।
IELTS ছাড়া আবেদন করা যায়? কিছু কোর্সে আগের শিক্ষার ভাষার প্রমাণ বা বিকল্প পরীক্ষা গ্রহণ করা হতে পারে। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব প্রোগ্রামের জন্য IELTS ছাড় আছে, এমন নয়। নির্বাচিত কোর্সের Language Requirements-ই চূড়ান্ত।
কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বেছে নেবেন?
অফিশিয়াল Study Finder থেকে নিজের ডিগ্রি, বিষয় এবং বাংলাদেশের জন্য উপলব্ধ প্রোগ্রাম খুঁজুন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং নয়, কোর্সের মডিউল, ইংরেজি ভাষার শর্ত, শহরের জীবনযাত্রার খরচ ও ভবিষ্যৎ পড়াশোনা বা চাকরির লক্ষ্য মিলিয়ে দেখুন। আবেদন পোর্টালে যে কোর্সগুলো সত্যিই উন্মুক্ত, সেখান থেকেই পছন্দ করুন।
Stipendium Hungaricum Bangladesh আবেদন করার ধাপ
- সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি পড়ুন: অফিশিয়াল Call for Applications, Application Guide এবং বাংলাদেশের Sending Partner-এর নির্দেশনা আলাদা করে পড়ুন।
- কোর্স নির্বাচন করুন: অনুমোদিত তালিকা থেকে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন প্রোগ্রাম নির্বাচন করুন।
- অনলাইন অ্যাকাউন্ট খুলুন: অফিশিয়াল আবেদন পোর্টালে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইমেইল দিয়ে নিবন্ধন করুন। একই রাউন্ডে একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন না।
- ফরম ও ডকুমেন্ট জমা দিন: ব্যক্তিগত তথ্য, একাডেমিক ইতিহাস, নির্বাচিত কোর্স এবং প্রয়োজনীয় ফাইল আপলোড করুন।
- বাংলাদেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন: Sending Partner আলাদা পোর্টাল, মনোনয়ন বা অতিরিক্ত কাগজ চাইলে সেই নির্দেশনা ও সময়সীমা অনুসরণ করুন। শুধু হাঙ্গেরির পোর্টালে আবেদন করে থেমে যাবেন না।
- ইমেইল ও পোর্টাল দেখুন: Technical check, nomination, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আপডেট অনুসরণ করুন।
- অফার পেলে প্রস্তুতি নিন: Scholarship acceptance, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, আবাসন ও হাঙ্গেরির student residence permit/visa প্রক্রিয়ার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
কী কী ডকুমেন্ট লাগতে পারে?
- পাসপোর্ট বা অনুমোদিত পরিচয়পত্র
- শিক্ষাগত সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- Motivation Letter, নিজের লক্ষ্য ও কোর্সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে
- নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী ইংরেজি বা অন্য ভাষার দক্ষতার প্রমাণ
- PhD আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য গবেষণা পরিকল্পনা ও সুপারভাইজার-সংক্রান্ত কাগজ
- প্রোগ্রাম বা Sending Partner চাইলে অতিরিক্ত সুপারিশপত্র ও সত্যায়িত অনুবাদ
কোন ফাইল কখন জমা দিতে হবে এবং কোন নথি পরে জমা দেওয়ার সুযোগ আছে, তা সংশ্লিষ্ট বছরের Application Guide-এ নির্ধারিত থাকে। পুরোনো বছরের checklist হুবহু অনুসরণ করবেন না।
Sending Partner nomination কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই স্কলারশিপে বাংলাদেশি আবেদনকারীর জন্য Sending Partner-এর মনোনয়ন গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। মনোনয়ন পেলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যোগ্যতা যাচাই, পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার এবং চূড়ান্ত বৃত্তি বরাদ্দের প্রক্রিয়া থাকে। অন্য দেশের Sending Partner-এর নিয়ম বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেবেন না।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের নতুন বিজ্ঞপ্তি দেখুন এবং অফিশিয়াল partner directory-তে যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে নিন। পূর্ববর্তী ২০২৬/২৭ রাউন্ডে বাংলাদেশে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী রাউন্ডের নতুন পদ্ধতি এখনো আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
আবেদনপত্র ভালো করার ব্যবহারিক পরামর্শ
Motivation Letter-এ “বিদেশে পড়তে চাই” লিখেই শেষ করবেন না। যেমন Computer Science-এ আবেদন করলে নিজের প্রজেক্ট, প্রাসঙ্গিক কোর্স, কোন গবেষণা বা দক্ষতা অর্জন করতে চান এবং সেই নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম কেন মানানসই, তা উদাহরণ দিয়ে লিখুন। একই লেখা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা না দিয়ে প্রতিটির কোর্সের সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধন করুন।
আপনার একাডেমিক নথিতে নামের বানান ও তারিখ যেন পাসপোর্টের সঙ্গে মেলে। ডেডলাইনের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অনুবাদ, স্ক্যান ও ভাষার প্রমাণ আগেই প্রস্তুত রাখুন। স্কলারশিপের নামে এজেন্টকে “নিশ্চিত মনোনয়ন” বা “গ্যারান্টিযুক্ত অফার” বাবদ অর্থ দেবেন না।
স্কলারশিপ পেলেও কী খরচের পরিকল্পনা করবেন?
প্রথম মাসের থাকার জায়গা, ডিপোজিট, যাতায়াত, খাবার, জরুরি স্বাস্থ্যব্যয় ও প্রাথমিক সেটআপের জন্য আলাদা তহবিল রাখুন। শহরভেদে ব্যয় বদলায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক প্রস্তুতি এবং বাংলাদেশিদের জন্য অন্যান্য স্কলারশিপ সম্পর্কেও পড়তে পারেন। ইউরোপে অন্য যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের তুলনা করতে Erasmus Mundus গাইড সহায়ক।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. বাংলাদেশিরা কি Stipendium Hungaricum-এ আবেদন করতে পারেন?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ Sending Partner তালিকায় আছে। তবে নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষে অনুমোদিত ডিগ্রি ও বিষয় যাচাই করতে হবে।
২. ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন শুরু হয়েছে?
৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই রাউন্ডের নিশ্চিত নতুন বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। ২০২৬/২৭-এর ১৫ জানুয়ারির ডেডলাইনকে নতুন ডেডলাইন ভাববেন না।
৩. আবেদন করতে কি টাকা লাগে?
অফিশিয়াল স্কলারশিপ আবেদন সাধারণত বিনামূল্যে। অনুবাদ, পরীক্ষা, পাসপোর্ট বা ভিসা প্রস্তুতির ব্যক্তিগত খরচ আলাদা হতে পারে।
৪. IELTS বাধ্যতামূলক?
সব কোর্সে একই নিয়ম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট Language Requirements দেখুন।
৫. HSC পাস করে আবেদন করা যাবে?
প্রাসঙ্গিক Bachelor’s প্রোগ্রামে আবেদন করা সম্ভব হতে পারে, যদি বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বাংলাদেশি কোটা/বিষয়গত শর্ত পূরণ করেন।
৬. PhD-এর জন্য আলাদা আবেদনপত্র লাগে?
PhD-এর Call for Applications ও গবেষণাভিত্তিক শর্ত আলাদা। গবেষণা পরিকল্পনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত মূল্যায়ন থাকতে পারে।
৭. মনোনয়ন পেলেই কি স্কলারশিপ নিশ্চিত?
না। Sending Partner nomination-এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত বরাদ্দ বাকি থাকে।
৮. মাসিক ভাতা দিয়ে কি সব খরচ চলে?
নিশ্চিত নয়। বাসা ও শহরভেদে নিজের সঞ্চয় প্রয়োজন হতে পারে।
৯. দুইটি অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করা যাবে?
না। ২০২৬/২৭-এর Application Guide-এ একই রাউন্ডে একাধিক অ্যাকাউন্টের আবেদন বাতিলের কথা বলা হয়েছে।
১০. বাংলাদেশে আলাদা আবেদন করতে হবে?
Sending Partner-এর নিজস্ব প্রক্রিয়া থাকতে পারে। সর্বশেষ বাংলাদেশি সরকারি নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
১১. স্কলারশিপ পেলে কি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়?
না। স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্রের পর প্রযোজ্য immigration ও residence permit নিয়ম পূরণ করতে হয়।
১২. কোথায় নতুন আপডেট পাব?
অফিশিয়াল Stipendium Hungaricum ওয়েবসাইট, আবেদন পোর্টাল ও বাংলাদেশের Sending Partner-এর সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখুন।


