Popular Now
স্কয়ার গ্রুপে চাকরির আবেদন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশের প্রতীকী ছবি

Square Group Job Circular: স্কয়ার কোম্পানিতে চাকরি, যোগ্যতা ও আবেদন

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাডক্লিফ ক্যামেরা ভবন, Commonwealth Scholarship গাইড

Commonwealth Scholarship Bangladesh: UK-তে Masters ও PhD স্কলারশিপের যোগ্যতা, আবেদন ও খরচ

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতীকী ইলাস্ট্রেশন

PRAN RFL Job Circular: প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ, যোগ্যতা ও আবেদন

শহরের সড়কে ট্রাফিক সিগন্যালের পাশে চলাচলরত গাড়ি

চালকবিহীন Toyota bZ4X নিয়ে Waymo-র নতুন পরিকল্পনা, জাপানে পরীক্ষা ২০২৭ সালে

Toyota ও Waymo ২০২৭ সালে জাপানে চালকবিহীন bZ4X বৈদ্যুতিক গাড়ি পরীক্ষা শুরু করবে। পরে যুক্তরাজ্যেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাপানে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করছে Toyota ও Waymo। দুই প্রতিষ্ঠানের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে জাপানে Toyota bZ4X বৈদ্যুতিক গাড়িতে Waymo-র স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যসহ আরও কিছু বাজারে এই গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

৩০ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় Toyota ও Waymo জানিয়েছে, জাপানে তৈরি গাড়ি দিয়েই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যাত্রী পরিবহন সেবা গড়ে তোলার দিকে এগোতে চায় তারা। তবে ২০২৭ সালকে বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা শুরুর নিশ্চিত তারিখ বলা হয়নি। প্রথম ধাপে পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

Toyota ও Waymo আসলে কী করতে যাচ্ছে?

Toyota তৈরি করবে bZ4X মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি। আর Google-এর মূল প্রতিষ্ঠান Alphabet-এর অধীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তি কোম্পানি Waymo যুক্ত করবে নিজস্ব ড্রাইভিং সিস্টেম। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো নির্ধারিত এলাকায় গাড়িকে মানুষের সরাসরি স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলাচল করানো।

গাড়িগুলো জাপানের আইচি অঞ্চলের Toyota City-তে অবস্থিত Takaoka কারখানায় তৈরি হবে। একই কারখানায় গাড়ি তৈরির পাশাপাশি Waymo-র স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হবে। আলাদা জায়গায় নিয়ে পরে গাড়ি পরিবর্তন করার প্রয়োজন কমানোই এই ব্যবস্থার একটি সম্ভাব্য সুবিধা।

এটি হঠাৎ শুরু হওয়া প্রকল্প নয়। দুই কোম্পানি ২০২৫ সালের এপ্রিলে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে কাজ করার প্রাথমিক সমঝোতা করেছিল। নতুন ঘোষণায় সেই পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ, অর্থাৎ বাস্তব গাড়ি তৈরি ও পরীক্ষার সময়সূচি স্পষ্ট করা হয়েছে।

চালকবিহীন bZ4X গাড়িতে কী সুবিধা থাকবে?

যাত্রীদের আরামের জন্য গাড়ির পেছনে পা রাখার বাড়তি জায়গা, স্বয়ংক্রিয় দরজা, বৈদ্যুতিকভাবে খোলা-বন্ধ হওয়া পেছনের দরজা এবং কেবিনে বিশেষ আলোর ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে Toyota। এসব পরিবর্তন মূলত যাত্রী ওঠানামা ও রোবোট্যাক্সিতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সহজ করার জন্য।

Waymo-র প্রযুক্তি গাড়ির চারপাশের পরিবেশ বুঝে চলার জন্য সেন্সর, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তবে নতুন bZ4X-এর সেন্সরের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, প্রযুক্তিগত সব বৈশিষ্ট্য কিংবা পরীক্ষার গাড়ির সংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

Level 4 স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বলতে কী বোঝায়?

Toyota ও Waymo এই প্রকল্পে Level 4 স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তির কথা বলেছে। সহজ ভাষায়, Level 4 মানে নির্দিষ্ট এলাকা ও অনুমোদিত পরিস্থিতিতে গাড়ি নিজে চলতে পারে; প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে গাড়িটি পৃথিবীর যেকোনো রাস্তা, আবহাওয়া বা পরিস্থিতিতে চালক ছাড়াই চলতে পারবে।

কোন এলাকায় গাড়ি চলবে, রাস্তার অবস্থা কেমন, স্থানীয় আইন কী বলছে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার ফল কী, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তি উন্নত হলেও পরীক্ষা, অনুমোদন ও নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজন শেষ হয় না।

জাপানে কবে চালু হবে, যুক্তরাজ্যে কখন আসবে?

প্রতিষ্ঠান দুটির ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে জাপানে প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা ও যাচাই শুরু হবে। এরপর বাণিজ্যিক সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং Waymo-র অন্যান্য বাজারে গাড়ি আনার পরিকল্পনা পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য রাখা হয়েছে।

কিন্তু কোন মাসে পরীক্ষা শুরু হবে, প্রথমে জাপানের কোন শহরে কতটি গাড়ি চলবে, সাধারণ যাত্রী কবে বুকিং দিতে পারবেন কিংবা ভাড়া কত হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে এখনই এই গাড়িতে যাত্রা করার সময় বা মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

সাধারণ Toyota গাড়িতেও কি Waymo প্রযুক্তি আসবে?

দুই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের Toyota গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে। তবে এটি এখনো গবেষণা ও আলোচনার পর্যায়ে। বাজারে থাকা সাধারণ bZ4X গাড়ি কিনলেই Waymo-র রোবোট্যাক্সির মতো চালকবিহীন সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন কোনো ঘোষণা নেই।

Toyota-র সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Woven by Toyota-ও এই সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে। Waymo-র বাস্তব সড়কের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া তথ্য কীভাবে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো যায়, সেটিও তারা অনুসন্ধান করবে।

বাংলাদেশের জন্য এই খবর কতটা প্রাসঙ্গিক?

বাংলাদেশে এই রোবোট্যাক্সি চালুর কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে যানজট, রাস্তার বৈচিত্র্য, পথচারী ও মোটরসাইকেলের চলাচল এবং বর্ষাকালের আবহাওয়ার মতো বিষয় স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। জাপানে সফল পরীক্ষা হলেও বাংলাদেশের সড়কে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে স্থানীয় অবকাঠামো, আইন ও নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন হবে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, Toyota ও Waymo একটি বাস্তব গাড়ির বহর নিয়ে পরীক্ষার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে। চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা কবে সাধারণ মানুষের জন্য চালু হবে, সেটি জানতে আগামী বছরের পরীক্ষা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।

Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *